তানজিনা আক্তার দিপু: বাংলাদেশে প্রথম বিউটি পার্লারের নাম ছিল মেফিয়ার, যা ছিল মালিক কামেল নামে একজন বিদেশীর নেতৃত্বাধীন। প্রথম বাঙালি হিসেবে ১৯৭৪ সালে লিভিং ডল নামে বাংলাদেশে বিউটি পার্লারের সূচনা করেন জেরিন আসগর। পাকিস্তানে ১০ বছর অবস্থানকালীন সময়ে জেরিন আসগর বিউটি পার্লারের কাজ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেন । পাকিস্তানের করাচী থেকে তিনি প্রথম প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হন।
এরপর জেরিন আসগর তার ছোট বোন গীতি বিল্লাহকে পাকিস্তানে নিয়ে পার্লারের প্রশিক্ষণ দেন। কারণ তিনি বাংলাদেশে বিউটি পার্লারের সূচনার স্বপ্ন দেখতেন। তাই পরে বাংলাদেশে ফিরে এসে জেরিন আসগর ও গীতি বিল্লাহ দুই বোন পল্টনে তাদের বাবার বাসার নিচ তলায় লেডী কেয়ার নামে প্রথম পার্লারের কাজ শুরু করেন। একটা আয়না এবং একটা চেয়ার দিয়েই যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের প্রথম বিউটি পার্লারের এবং কিছুদিন পর এর জনপ্রিয়তা দেখে তিনটি রুম নিযে কাজ করা হয়।
প্রথমদিকে বান্ধবীদের ৫ টাকা বা কখনও ফ্রি চুল কেটে দিতেন তারা। অনেকটা প্রচারের কাজের জন্যই ১৯৫৩ সাল থেকে প্রকাশিত সেসমযের বিখ্যাত সচিত্র সাহিত্য পত্রিকা সন্ধানী, হলিডে, এক্সপ্রেস, যায় যায় দিন এসব পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। এছাড়াও পত্রিকার ভিতরে লিফলেট দিয়ে স্কুল ছাত্রীদের কাছে প্রচার করতেন। এভাবে যখন সুবিধা পেয়ে একের পর একজন আসতে থাকে তখন একসময় দেখা গেল পার্লার থেকে শুরু করে জোনাকি সিনেমা হল পর্যন্ত মেয়েদের ভিড়। এছাড়াও সেসময়ের শাবানা, ববিতা, কবরী, সুচরিতা, শবনমসহ জনপ্রিয় সব চিত্র-নায়িকারা, এবং সাইড নায়িকারা তখন একে একে আসতে থাকে।
জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে তখন তারা তাদের বোনদের এবং দুইজন কর্মচারীকে এই প্রশিক্ষণ দেন। তারপর বিয়ে হয়ে যায় গীতি বিল্লার। দুই বোন আলাদা হয়ে গেলে তারা আলাদাভাবে কাজ করতে থাকে। ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই প্রথম গীতি বিল্লাহ গীতি’স বিউটি ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলেন। বর্তমানে এই ট্রেনিং সেন্টার থেকে ২ মাসে ১০ জন মেয়ে আর্থাৎ বছরে ৫০ জন ট্রেনিং প্রাপ্ত হয়। তারপর দেশের বিউটিশিয়ানদের নিয়ে ১৯৯১ সালের ১ জুলাই গড়ে তুলা হয় লেডিস বিউটি পার্লার ওনার এসোসিয়েশন। এই এসোসিয়েশনের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন লিভিং ডলের মালিক জেরিন আসগর এবং সেক্রেটারি ছিলেন গীতি বিল্লাহ। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুরপর জেরিন আসগর এই কাজ থেকে অব্যাহতি নেন এবং বতর্মানে এই এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হলেন গীতি বিল্লাহ। শুরুর দিকে এই এসোসিয়েশনের সদস্য ৪০-৫০জন হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের নামকরা বিউটিশিয়ানদের ৭০-৮০ জন এই এসোসিয়েশনের সদস্য |