অভ্যন্তরীণভাবে সৌন্দর্যের প্রকাশ খাবারে

মাহমুদা মুস্তাকিম রুবি
মিং হারবার বিউটি পার্লার
প্লট#২৫/১, ৬/খ,
মিরপুর-১০, ঢাকা-১২১৬
ফোন- ৮০৬০৭৪২,

মোবাইল- ০১৭৩০০৩৮৬৭৭, ০১৭১২২২০৭৩৩, ০১১৯০৪৮১৩১৪


রূপচর্চা এখন আর বিলাসিতা নয়। সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনের জন্য রূপচর্চা একান্ত আবশ্যিক। এটা নিত্যনৈমিত্তিক কাজের একটি অংশ হিসেবে ধরা হয়। এই চর্চা নারী পুরুষ সবাই করতে পারে। তবে দরকার হচ্ছে সৌন্দর্যচর্চার জন্য পরিমিত, পরিশীলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উপর সঠিক জ্ঞান। যা নাকি নিয়ম মাফিক, উপযুক্ত, কার্যকর ও স্বত:স্ফূর্ত।

সৌন্দর্যচর্চা বলতে প্রথমেই চলে আসে ত্বক ও চুল, তবে ফিগার তো অবশ্যই সৌন্দর্যের চাবিকাঠি। সৌন্দর্য ধরে রেখে সুস্থ থাকতে হলে প্রথমেই খাবারের ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। সৌন্দর্যচর্চা করতে হবে দুটি নিয়মে:
১. অভ্যন্তরীণ ভাবে
২. বাহ্যিক ভাবে

একারণে প্রথমেই অভ্যন্তরীণ এর ব্যাপারে বলা দরকার। ত্বক বিশেষ করে মুখের ত্বকের উপর গুরুত্ব আগে দিতে হবে। কারণ মুখ ব্যক্তিত্বের আয়না, মনেরভাব প্রকাশের প্রধান আবার বলা
চলে সৌন্দর্যের প্রকাশেরমূল অংশ।

আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে আছে ত্বক। কেবল বয়সের কারনেই নয় পরিবেশ, আবহাওয়া, খাদ্যাভাস, জীবনধারা ইত্যাদি সবকিছুই ছাপ ফেলে ত্বকের বিশেষ করে মুখের ত্বকে, তারপর গলা ও হাতের অংশে। তবে এই ছাপ প্রথমে শুরু হয় মুখ থেকে। সৌন্দর্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক। খাদ্যাভাসের মাধ্যমে ফিগার ধরে রাখাও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ন নয়। তবে সুষম ও ডায়েট খাবার মানে না খাওয়া নয়, যথাযথ খাদ্যাভাস। বিশেষ করে আমি মেয়েদের কথাই বলছি। চুল ও ত্বকের নানা সমস্যার উৎপত্তি বা অন্যতম প্রধান কারণ খাদ্যাভাসজনিত অপুষ্টি। এই পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে ত্বকের যে ক্ষতি হয় তার কিন্তু তেমন তাৎক্ষণিক বাহ্যিক সমাধান নেই। তাই বরতে হয় Prevention is better than cure. অর্থাৎ  সমস্যায় পড়ার আগে যাতে সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।

খাদ্য তালিকায় ৮/৯ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি, টাটকা ফলের রস, টাটকা সবজি, ফল, ছোট মাছ, ডিম, দুধ, ছোট মুরগি, আঁশ জাতীয় খাবার এবং প্রতিদিন খাবারের সাথে ভিটামিন সি, ই, ক্যালসিয়াম, আয়রন রাখতে চেষ্টা করুন। ফ্যাট জাতীয় খাবার, ভাত, রুটি ইত্যাদি খাবার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। তবে বাচ্চারা সবই খাবে। খাদ্যাভাসে রিচফুড কমরাখা উত্তম। এতে শুধু সৌন্দর্য নয়, সুস্থ আকর্ষণীয় হয়ে বয়স ধরে রাখার জন্য অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। যৌবনে ব্যালেন্স ডায়েট এর দিকে নজর দিতে হবে। এবয়সে মিষ্টি, চকোলেট, আইসক্রীম, পেষ্ট্রী, ভাজাপোড়া যত কম খাওয়া যায়, ততই ভাল। দেহের রক্ত সঞ্চালন সঠিক রাখার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশে প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। সাঁতার কাটা, হাটা খুবই কার্যকরী ব্যায়াম। ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যকে জীবনের সঙ্গী করে নিন। এতে সুনিদ্রা, সুস্থ ও সুন্দর হয়ে মন থাকবে অনেক বেশী ভাল। যা নাকি সৌন্দর্য বৃদ্ধির ও স্থায়ী হওয়ার মূলমন্ত্র হতে পারে। তার সাথে উত্তম স্বাস্থ্যলাভ তো বটে। নিজের সুষম খাবারের দিকে সঠিক নজর দিন। এতে চুল, ত্বক, ফিগার সবই ভাল থাকবে। আমি আবারও বলছি সুষম আহার বা ডায়েট মানে কম খাওয়া নয়, যথাযথ খাদ্যাভাস মাত্র।

কাজেই নিজের খাবারের ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করুন। ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। কারণ তা আগের দিনের খাবারের হজমে সাহায্য করে। তারপর ৩০/৪০ মিনিটপর নাস্তা করুন। প্রতিদিন ১কাপ টকদই এবং ফল নাস্তার সাকে রাখুন। নিমপাতা, কালিজিরা, কাঁচা রসুন, কাঁচা হলুদ ইত্যাদি মিলিয়ে বেটে ২ চামচ খাবার অভ্যাস করুন। কালিজিরা পরিপাকে সাহায্য করে, কাঁচা রসুন ও কাঁচা হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা, লাবণ্য ও যৌবন ধরে রাখে। এগুলো থেকে রোগমুক্তিও পাওয়া যায়। ত্বকে সহজে দাগ পড়ে না। ত্বক ও চুল হবে অনেক বেশী উজ্জ্বল। প্রতিদিন নাস্তার সাথে একটি All Vitamin  Tips:

১. ২টি গ্রীণ অলিভ (নন্দনে পাওয়া যাবে)
২. ২টি কাঠ বাদাম
৩. এক মুঠ কাঁচা ছোলা (রাতে ভিজিয়ে রাখবেন)
৪. ৮/১০টি কিছমিস
৫. ২টি খুরমা

এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন ইন্টারনাল সমস্যার জন্যে ত্বকে বা চুলে অনেক সমস্যা দেখা যায়। যেমন:
১. অল্প বয়সে ত্বকে ভাঁজ পড়া,
২. ত্বকে দাগ দেখা যাওয়া,
৩. চোখের নিচে কালি পড়া,
৪. ব্রণ বা মেছতা হওয়া,
৫. চুল অকালে পাকা,
৬. চুল ফেটে যাওয়া,
৭. চুল পড়া,

আর এসব সমস্যা থেকে সমাধান পাওয়ার মূল উপায় হচ্ছে সুষম খাবার।