মানুষ মাত্রই পরিবর্তনে আগ্রহী। তাই এক রকম জিনিস কেউ বেশি পছন্দ করে না। প্রতিদিন ডাল ভাত খেতে খেতে মনে হয় আজকে বিরিয়ানি খাই। সাইকোলজির ভাষায় বলতে গেলে পরিবর্তনগুলো আসার পেছনে যে কারণ তাহলো মানুষের গতানুগতিকতা দীর্ঘায়িত করতে না চাওয়া। তেমনিভাবে নিজেকে বদলে ফেলার ইচ্ছে থেকেই ফ্যাশন ভাবনায় আসে পরিবর্তন। কারণ ফ্যাশন মানেই হচ্ছে পরিবর্তন। ফ্যাশনের কথা আসলে তাই বড় একটা অংশ জুড়ে থাকে মেয়েদের পোশাকের কথা। বড় বড় শপিং মল গুলোতে আলোর ঝলকানিতে মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক গুলোই যেন বেশি আকর্ষণ করে। মেয়েদের পোশাক এবং ফ্যাশনের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে সালোয়ার কামিজ। কারণ আধুনিক কালে কেবল মাত্র তরুণীরাই নয় প্রায় সব বয়সের নারীরাই সালোয়ার কামিজ পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ফ্যাশনের ক্ষেত্রে ফ্যাশন হাউস গুলোর অবদান অনেক বেশি। তাই ফ্যাশনের পরিবর্তনীয়তার সাথে মিল রেখে ডিজাইনাররা প্রতি সপ্তাহেই নতুন কিছু দেবার চেষ্টা করে। ওয়েস্টার্ন ড্রেসের চেয়ে সালোয়ার কামিজে চেঞ্জ আনাটা একটু কঠিন।
তারপরও ফ্যাশনের পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে আধুনিক কালে প্রতিটি ফ্যাশন হাউজই কামিজের কাটিং প্যার্টানে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। আর এই পরিবর্তনের ব্যাপকতা চোখে পড়ার মতো। কামিজের কাটিং, কলার, লে-আউট, ছাপা, ব্লক, বুটিক, বাটিক, লেস ও চুমকির ব্যাবহার প্রায় সবকিছুতে ইদানিং বিভিন্নতা দেখা যাচ্ছে । আজকের তরুনীরা ট্রাডিশনাল পোশাকের পাশাপাশি এই নতুন ধারার ফ্যাশনের সাথে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে।
প্রথমে আসা যাক কামিজ কাটের কথা। একটু চিন্তা করলেই দেখা যায়, আমাদের দেশে প্রতি দশ বছরে ফ্যাশনে একবার বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। আমাদের প্রতিবেশি ভারত পাকিস্তানে দুবছর হয়ে গেল লং কামিজ বেশ দাপটের সঙ্গে চলছে। প্রতি পাঁচ বছরে ভারতে একটা বড় পরিবর্তন আসে মেয়েদের পোশাকে। পেছনের বছরগুলোর ফ্যাশনের দিকে তাকালে দেখা যায় যে শর্ট কামিজের আধিপত্যটাই বেশি ছিল। তবে আজকাল আবার শর্ট কামিজের পাশাপাশি হাটুর নিচ পর্যন্ত লম্বা ঝুলের কামিজও বেশ চলছে। একারণে এবারের ঈদে যেসব কামিজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল তার মধ্যে আনারকলি, আঙরাখা, মাজাক্কালি কামিজ হঠাৎ করেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে বেশিরভাগ তরুনীর শর্ট কামিজই পছন্দ। তবে কামিজের এই লং-শর্টই চক্রাকারে চলতে থাকে। যা আমাদের মা-খালাদের আমলেও ঘটেছে, এখনও হচ্ছে। আবার স্ট্রেইট কার্ট এর পাশাপাশি এখন লেয়ার, ঘের, কাল নিয়ে ও ব্যাপক কাজ হচ্ছে। এবার আসা যাক সালোয়ার প্রসঙ্গে। সালোয়ারের প্রসঙ্গ যদি আসে তবে বলতেই হবে যে এত বছরে এত ধরনের এত কাট আগে কখনও বাংলাদেশে আসেনি। শর্ট কামিজের ট্রেন্ডের কারণেই সালোয়ারের কাটে এসেছে অনেকখানি পরিবর্তনের সুযোগ। পুরোনো দিনের পায়জামা ও চুড়িদারের আদলে বা হাল আমলের প্যান্ট স্টাইলের প্রভাবে সালোয়ারের কাটে এসেছে অনেকখানি বৈচিত্র্য। চোস্ত পায়জামারও একাধিক স্টাইল, চুড়িদারেরও দুই তিনটা ভেরিয়েশন দেখা যায়। উপরে রাজস্থানী নিচে চুড়িদার স্টাইল এমন বেশ কিছু সালোয়ার তৈরি হয়েছে ধুতির আদলে। এর মধ্যে কিছু দেখতে ধুতির মত, কিন্তু খানিকটা চাপা। ধুতিরই এরকম সাত আটটা স্টাইল দেখা যায়। এছাড়াও সালোয়ারে বাটন ও পাইপিং এর ব্যবহার চোখে পড়ার মত। ইদানীং আবার কামিজে কাজ করা কিন্তু সালোয়ারটা সিম্পল চোখে পড়ে। কামিজে আবার হালকা কাজ হচ্ছে তবে সালোয়ারটা আবার গর্জিয়াস হচ্ছে।
হাতার ক্ষেত্রেও চেঞ্জটা কিছুটা সালোয়ারের মত। আজকাল আবার অনেক ধরনের হাতা চোখে পড়ে। শর্ট হাতা, ভিসেল থেকে শুরু করে ম্যাগি হাতা, ফুল হাতা, থ্রি কোয়াটারসহ অনেক । কখনও কখনও আবার বাটন, ক্লিপ দিয়েও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এমনকি ঘটি হাতাও চোখে পড়ছে ।কালারেরও বিরাট একটা চেঞ্জ আসছে। গত পাঁচ ছয় বছর খুব ভাইব্রেন্ট কালার, ফ্ল্যাশি কালার যেসব খুব চোখে লাগে- লাল, ম্যাজেন্টা, কমলা ইত্যাদি ব্যবহার হয়েছে বেশি। একটা সময় ছিল যখন এসব কালারের ড্রেস পরলে সবাই খাটি বাংলায় খ্যাত বলে সম্বোধন করতো। আবার খুব ফ্লরোসেন্ট কালারগুলো চলছে। দেখতেও কিন্তু' খুব ভাল লাগে। এক সময় আবার ওরেঞ্জ এর সাথে ম্যাজেন্টার কথা চিন্তাও করা যেত না, কিন্তু সেটারও এখন খুব সমাদর চলেছে। ইনডিরেক্ট কালারে একটু আপটোন কিংবা গ্রিন, সেগুলোর একটু ব্রাইট সবাই পছন্দ করে। অর্থাৎ এমব্রয়ডারিটা হয়ত উজ্জ্বল হবে, কিন্তু বেইজ কালারটা একটু ম্যাট থাকবে।ওড়নার ক্ষেত্রে কাপড়ের ওপর প্রাধান্য দেয়া হয় বেশি। সিফন, জর্জেট, সিল্ক এসব কাপড়ে লেস বা চুমকির কাজ চোখে পড়ার মত।
সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে যে, ইদানিং সালোয়ার কামিজে চুমকি, পুতি, লেইসের মত অ্যাক্সেসরিজের ব্যবহারও বাড়ছে। সত্তর দশকের যে-লেইসের ব্যাপকতা ছিল আজকাল আবার তা চোখে পড়ছে। ডিজাইনাররা মূলত অতীতটাই বর্তমানে এনে একটা মোডিফাই করে। তবে আজকাল কাপড়ের টেক্সচারেরও আসছে পরিবর্তন। আগে ডিজাইনাররা কাপড়ের উপর বিভিন্ন ডিজাইন করতো, আর এখন কাপড়টাই একটা ডিজাইন। কাপড়ের ডিজাইনে ভেরিয়েশন আনা হচ্ছে ছোট্ট একটা কাট দিয়েই। ব্রাউন, পিচ, লাইলাক, পিংক এসব টোন এবছর বেশি চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লেইস এবং প্যাচওয়ার্ক এর ব্যবহারও বেশি থাকবে।আমাদের দেশে সালোয়ার কামিজের ফ্যাশনটা আসে ভারত কিংবা পাকিস্তানের ফ্যাশন থেকে। তবে আমরা নিজস্ব স্টাইলে থেকেই আলাদা আলাদাভাবে এসব ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুসরণ করছি। এটা একটা নতুনত্ব বলা যেতে পারে। তবে নতুন কিছু পেলে স্বভাবতই টিনএজরা আগে গ্রহণ করে। তাই টিনএজ মেয়েদের কাছে সালোয়ার কামিজের ফ্যাশন নতুনভাবে ফুটে উঠে বারবার। |