বাংলাদেশেই এশিয়ার বৃহত্তম ফিটনেস সেন্টার গোল্ডস জিম

তানজিনা আক্তার দিপু: বিশ্বের অন্যতম চেইন জিমনেসিয়াম গোল্ড জিম ২০০৪ সালে বাংলাদেশে তাদের  শাখা খুলে । বসুন্ধরা সিটির লেভেল ৭ ও লেভেল ৮ এর বিশাল স্পেস জুড়ে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই গোল্ড জিমটি অবস্থিত।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ৬৮১টি শাখার মধ্যে বাংলাদেশে এর শাখা মাত্র একটি, যেখানে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে এর শাখা ৭টি। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমদ আকবর সোবহান (শাহ আলম) বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০৪ সালে বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সে এর যাত্রা শুরু করেন।

সতের হাজার স্কয়ার ফিট বিস্তৃত জায়গা জুড়ে এই গোল্ড’স জিমটির দুটি লেভেল রয়েছে। নয় হাজার স্কোয়ার ফিট নিয়ে Level-9ছেলেদের জন্য এবং আট হাজার স্কোয়ার ফিট নিয়ে কেবল মাত্র মেয়েদের জন্য Level-10 দুটি অলাদা সেন্টার আছে এতে। এই জিমটির ধারণ ক্ষমতা পাঁচ হাজার। প্রতিদিন ৪০০-৫০০জন এই জিমে আসে, এর মধ্যে ২৫০-২৭০জন ছেলে এবং ১৫০-২২০জন মেয়ে। সববয়সী নারী-পুরুষের জন্য ফিটনেস জরুরী হলেও ছেলেদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৪-১৮ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ বছর বয়সীরাও এখানে আসে। মেয়েদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ১৮-২০ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭০-৭৬ বছর বয়সীরা এখানে আসে। এছাড়াও ৮-১০ জন বিদেশীকেও সবসময় দেখতে পাওয়া যায়। মেয়েদের লেভেলে ৯জন প্রশিক্ষক এবং ছেলেদের লেভেলে ৮ জন প্রশিক্ষক আছে। এখানে সচরাচর উচ্চবৃত্তদের যারা স্বাস্থ্য ও ফিটনেস নিয়ে সচেতন তাদেরকে দেখতে পাওয়া যায় বেশি।

২৯ রকমের অত্যাধুনিক মেশিন নিয়ে এই জিমটি প্রতিদিন সকাল ৭:৩০টা থেকে রাত ১০টা এবং শুক্রবার ৩:৩০ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কোলা থাকে। Cardiovascular Training, Strength Training, World Class Free Weight Training, Aerobics, Spinning, Yoga, Swimming Pool(Warm Water), Steam, Sauna, Jacuzzi, Fitness Assessment, juice Bar ইত্যাদি অত্যাধুনিক ফিটনেস ট্রিটমেন্ট এখানে খুব দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়াও Free Locker, Towel, Hot/cold  Shower, Shop ইত্যাদি বাড়তি সুবিধাও পাওয়া যায় এখানে। বিভিন্ন উপলক্ষ্যে এখানে Gold ও Express ক্যাটাগরির জন্য রয়েছে ২৫%-৪৫% পর্যন্ত ছাড়।

শারীরিক অসুস্থতা বিশেষ করে ডায়াবেটিস, ওপেন হার্ট সার্জারী, বেইক পেইন ইত্যাদি রোগীদের বডি চেকআপের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষকের নিয়ন্ত্রণে ফিটনেস ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়ে থাকে। এখানে ২৫-৩৫ বছর বয়সীরা এমনকি ১৪ বছরের ছেলেরা ৫০-৫৬ কেজি ওজন কমানোর সাফল্য অর্জন করেছে। যদিও খরচটা একটু বেশি, তারপরও স্পিনিং, স্পা এবং সুইমিং পুলের সুবিধা যা বাংলাদেশের কোথাও নেই, তা এখানে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি সদস্যের জন্য ২০০৭ সালে এশিয়ার বৃহত্তম ফিটনেস সেন্টার হিসেবে গোল্ড’স জিম মনোনয়ন পেয়েছিল।