সৌন্দর্যের গূঢ় রহস্য পুষ্টিকর খাবার

তানজিনা আক্তার দিপু

আদি কাল থেকে আজ পর্যন্ত রূপ সচেতন ছেলেমেয়ে উভয়ই তাদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে অন্যান্য বিষয়ে যতটা সচেতন, খাবার সম্পর্কে ততটা নয়। কিন্তু জানা দরকার যে খাবার এর সাথে সৌন্দর্য অনেক বেশি জড়িত। কোন এক সময় মানুষ শুধু খাওয়ার জন্য খেত। কিন্তু আজকের দিনে সৌন্দর্য সচেতন মানুষ তাদের সৌন্দর্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে খাবারকে অনেক বেশি প্রাধান্য দেয়। তারা তাদের খাদ্য তালিকায় এমন খাবার রাখতে চায় যা তাদের ত্বক, চুল, ঠোঁট, নখ ইত্যাদির যত্ন নিবে ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে। সেসব সৌন্দর্য সচেতন মানুষের জন্য আমাদের আজকের কিছু টিপস।

চুল

বাঙালি নারীর আসল সৌন্দর্য যেন তার চুল। তাই চুল নিয়ে অনেকের যেন ভাবনার অন্ত নেই। চুলের আগা গোড়া সমান করতে, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে , চুল ঝলমলে ও চকচকে কালো করতে, মাথার ত্বক পরিষ্কার করতে যেমন শ্যাম্পু, কনডিশনারসহ নানা প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, তেমনি ডায়েটের ব্যাপারেও সতর্ক হতে হবে। কারণ ডায়েটের মাধ্যমে চুলের স্বাস্থ্যকর পরিচর্যা সম্ভব যা চুলের ভবিষ্যত ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে । কারণ অধিক পরিমাণে কেমিক্যাল জাতীয় প্রসাধনীর ব্যবহার চুলকে রুক্ষ, অমসৃণ, অনুজ্জ্বল করতে পারে । চুলে ফাটল ধরতে পারে, চুল চিটচিটে হয়ে যেতে পারে এবং চুলে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। কিন্তু ডায়েটের মাধ্যমে চুলের পরিচর্যা চুলকে গোড়া থেকে মজবুত, মসৃণ ও উজ্জ্বল করতে পারে। তাই চুলের পরিচর্যায় কিছু ডায়েটের টিপস্ দেয়া হল:

 

১. স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য। সঠিক পরিমাণে আমিষ,শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে প্রচুর শাক-সবজি, ফল ও সালাদ। খনিজ পদার্থ ও ভিটামিনের অভাবে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়, চুল ঝরে পড়ে। তাছাড়াও সঠিক পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

 

২. চুল ছোট ও পাতলা হলে ঘন চুলের জন্য সব থেকে জরুরি ডায়েট। ডায়েটে প্রয়োজনীয় প্রোটিন যেন অবশ্যই থাকে। প্রতিদিন সালাদ, সবুজ শাকসবজি, সয়াবিন, দই, মাছ ডায়েটে অবশ্যই রাখুন। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। চুলের পরিচর্যায় কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান হল প্রোটিন, ভিটামিন ও স্নেহ পদার্থ।

 

প্রোটিন এবং চুল:
প্রোটিনের অভাবে চুলের রঙ নষ্ট হয়ে লালচে বা বাদামি হতে পারে, চুল ঝরে যেতে পারে, চুলের আগা ফেটে যেতে পারে। তাই খাদ্য তালিকায় মাছ, গোশত, ডিম,দুধ,ডাল,দই, পনির ইত্যাদি থাকা জরুরি।

 

ভিটামিন এবং চুল:
ভিটামিন-এ এর অভাবে চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে উঠে। আবার অতিরিক্ত ভিটামিন-এ এর জন্য চুল ঝরেও পড়তে পারে। ফলে চুল জায়গায় জায়গায় উঠে গিয়ে মাথায় টাকও পড়তে পারে। তাই এই ব্যাপারে সতর্ক থেকে খাদ্য তালিকায় দুধ, গাজর, মুলা, সবুজ শাক-সবজি থাকা প্রয়োজন। ভিটামিন-সি এর অভাবে চুল খসখসে শুষ্ক হয়ে উঠে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় তাই লেবু জাতীয় ফল, কমলালেবু, মোসম্বী ইত্যাদি
থাকা প্রয়োজন। ভিটামিন-বি চুলকে চকচকে ও ঘন করে তোলে। শস্যদানা, দুধ, ডিম, কলা, বাদাম, কলিজা ও ডালে রয়েছে ভিটামিন-বি। প্রতিদিন ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হবে এবং চুল ঝরবে না।

 

স্নেহপদার্থ এবং চুল:
চুল তৈলাক্ত হলে প্রাণিজ চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন। উদ্ভিজ্জ তেল খেতে পারেন। সম্পৃক্ত চর্বি গরু, খাসির গোশত কম খাবেন। দুধ বা ননী তোলা দুধ, পনির ও দই খেতে পারেন।

ত্বক:

মানুষের মুখের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে অনেক বেশি কোমল হয়। তাই যে কোন কারণে সহজে ত্বকের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। যেমন অতিরিক্ত পরিমাণে রোদে ঘোরাফেরার ফলে আপনার ত্বকে দাগ পড়তে পারে, মানসিক টেনশনের কারণে ও অতিরিক্ত পরিমাণে ভাজ পোড়া খেলে আপনার মুখে ব্রণ উঠতে পারে, আপনার ত্বক তৈলাক্ত হলে এবং খাবার সম্পর্কে সচেতন না হলে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা, কোমলতা, মসৃণতা নষ্ট হয়ে ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে এবং ত্বকে ব্রণ ও কালো দাগসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একারণে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য আপনাকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। খাবারের সাথে ত্বকের সৌন্দর্য অনেক বেশি জড়িত। ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় দৈন্যন্দিন খাবারের সাথে সাথে ঋতুভেদে খাবারের ও তারতম্য ঘটে।

 

১. বর্ষাকালে ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে এই সময় রোজ একটি করে আমলকী খেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এতে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পাবে। সর্দিকাশির হাত থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। উজ্জ্বল ত্বকের সঙ্গে পেটের সম্পর্ক আছে। পানি ফুটিয়ে পান করুন। শাকসবজি খেলে ভাল করে বিশুদ্ধ পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে খাওয়া দরকার। ত্বক উজ্জ্বল, সুন্দর রাখতে প্রচুর পরিমাণে ফল, শাক-সবজি, পানি ও পানি জাতীয় খাবার খাবেন।

 

২. গ্রীষ্মকালে অধিক পরিমাণে ফল ও পানি খেতে হবে। এসময় যতটা সম্ভব ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলতে হবে। তা নাহলে তৈলাক্ত ত্বকসহ ভালো ত্বকেও ব্রণ উঠতে পারে। এছাড়াও প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সালাদ রাখতে হবে। দুপুরের তুলনায় রাতে অবশ্যই কম খেতে হবে। মনে রাখতে হবে এই সময়ে এমন খাবার খাওয়া যাবে না যা হজমে গোলমাল করে। কারণ এতে আপনার চেহারার লাবণ্য নষ্ট হতে পারে।

 

ঠোঁট:
গাজরের রস ঠোঁটের জন্য ভাল। ভিটামিন সি জাতীয় ফল কমলা লেবু বেশি বেশি খেলে ঠোঁট আরও কোমল হবে। পানি খাবেন বেশি পরিমাণে, তাহলে ঠোঁটের জলীয় অভাব পূরণ হবে ।