মেকআপ নিয়ন্ত্রণে মেকআপ ব্রাশ

মেকআপ ব্রাশ এখন রূপচর্চার একটা অন্যতম প্রধান উপকরণ। একটা নিখুঁত মেকআপের পেছনে উন্নতমানের উপাদান ও প্রয়োগ দক্ষতার পাশাপাশি যে উপকরণ ব্যবহার করা হবে সেটার গুরুত্ব উড়িয়ে দেয়া যায় না। সাধারণভাবে মেকআপ ব্রাশ হলো এমন এক ধরনের উপকরণ যার কাজ হচ্ছে আপনার ত্বকের উপর মেকআপ প্রয়োগ । তবে মেকআপের উপকরণ হিসেবে এই ব্রাশ অপরিহার্য হলেও এটা নিয়ে রমনীকূল খুব কমই চিন্তা করে থাকেন।

 

মেকআপ ব্রাশ
এমন কিছু রমনী আছেন যারা মনে করেন মেকআপ ব্রাশ কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন মেকআপ প্রয়োগ করার কাজটা হাতের আঙ্গুলে করা সম্ভব হবে না। যদি হাতের আঙ্গুলগুলো জিনিসপত্র ধরার কাজেই ব্যবহার হয়, তাহলে মেকআপ ব্রাশ ধরতে বাধা কোথায়? তাই মেকআপ ব্রাশ বলতে এমন এক ধরনের ব্রাশকে বোঝায় যা ধরা ও নিয়ন্ত্রণ করা আপনার জন্য সহজ এবং একই সাথে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়।
মেকআপ ব্রাশ ব্যবহারের সুবিধা


হাতের আঙ্গুল প্রয়োগ করে কসমেটিক প্রয়োগ করা অনেক ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যোকর।


এ ব্রাশের সাহায্যে ম্যাচিং ইফেক্ট দেয়াও বেশ সহজ।


এ ব্রাশের সাহায্যে মেকআপকে অনেক বেশি স্বাভাবিক ও সহজ করে তোলা যায় এবং একটা রঙকে আরেকটা রঙের সাথে মেশানোও সহজ হয়।


মেকআপ ব্রাশ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 

হাতল, হেয়ার বালোম ও ফেরল এই তিনটি অংশ নিয়ে মেকআপ ব্রাশ গঠিত। ফেরল মূলত হেয়ারের সাথে হাতলকে যুক্ত রাখে। মেকআপের নির্ভুলতাকে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ করে বলে, মেকআপ ব্রাশের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ব্রাশের চুল। এটা তিনভাবে তৈরি হতে পারে। প্রাকৃতিক চুল, পশুর শক্ত লোম ও কৃত্রিম চুল থেকে। অতিরিক্ত কসমেটিকস ভেতরে আটকে রাখতে পারে এবং ব্যবহারের সাথে সাথে ব্রাশের চুলগুলো নরম হতে থাকে ফলে ব্যবহার করা আরও সহজ হয়ে যায় বলে সবচেয়ে উন্নতমানের হলো প্রাকৃতিক চুল থেকে তৈরি ব্রাশ।

কোন স্থানে ও কোন কাজে মেকআপ ব্রাশ প্রয়োগ করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে কয়েক ধরনের মেকআপ ব্রাশ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল:


পাওয়ার ব্রাশ: আকারে একটু বড় এ ব্রাশগুলো হলো অভিজাত গোত্রের। মুখের উপর থেকে ধূলো পরিষ্কার করতে বা চাপ দিয়ে পাউডার বসানোর জন্য ব্যবহৃত হয় এই ব্রাশ।

স্পঞ্জ ব্রাশ: একটি রঙের সাথে আরেক রঙ মেশানোর জন্য অর্থাৎ মুখের উপর দুই তিন রঙের শেড করেএকটা বিশেষ লুক দেয়ার জন্য এই ব্রাশ ব্যবহার করা হয়।


আই ব্রাশ: চোখ অনেক সেনসেটিভ। তাই চোখের যত্নে প্রয়োজন হয় আইশ্যাডো, আইলাইনার, আইব্রো ব্রাশ ইত্যাদি।


লিপ ব্রাশ: ঠোঁটের উপরে শেডগুলোকে নিখুঁত করার জন্য এবং বিভিন্ন রকমের রঙ ঠোঁটের উপর লাগানো ও মেশানোর জন্য এ ব্রাশ গুলো ব্যবহৃত হয়।

যেহেতু মেকআপ ব্রাশ গুলো মুখের ত্বকে ব্যবহৃত হয় এবং মানুষের মুখের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় অনেক বেশি সেনসেটিভ, তাই ত্বক বুঝে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী যেমন মেকআপ করতে হবে, তেমনি মেকআপ ব্রাশের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জরুরি। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে কেবল ৫টি ব্রাশ থাকলেই আপনি আপনার মেকআপের পুরো কাজটা সুচারুভাবে সম্পাদন করতে পারবেন।

সোজা মাথাবিশিষ্ট কনসিলার ব্রাশ: যেকোনো ধ রনের কনসিলার অথাৎ লিক্যুইড, ক্রিম বা পাউডার ইত্যাদি সহজেই প্রয়োগ করা সম্ভব এ ব্রাশের সাহায্যে।

আইলাইনার ব্রাশ: লিক্যুইড আইলাইনার এর সাথে অনেক ধরনের শেড তৈরি করতে এ ব্রাশ গুলো ব্রবহৃত হয়।

ফাউন্ডেশন ব্রাশ: মেকআপের শেষ পর্যায়ে ফাউন্ডেশন ব্রাশের সাহায্যে খুব সহজে ফাউন্ডেশন প্রয়োগ করা যায়।

 

কাবুকি ব্রাশ: মেকআপ ব্রাশের ক্ষেত্রে অলরাউন্ডার নামে পরিচিত এ ব্রাশটি যেকোন ধরনের পাউডার ও ব্রোনজের প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

 

বড় আইশ্যাডো ব্রাশ: পাউডার যেন চোখের বদলে নাকের উপর না পড়ে সেটার নিশ্চয়তার জন্য এবং একটা পরিচ্ছন্ন ও ন্যাচারাল লুক পাওয়ার জন্য এ ব্রাশ ব্যবহৃত হয়।

 

মুখের ত্বকের উপর ব্রবহৃত হয় বলে এ ব্রাশ গুলোর যত্ন নেয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ মেকআপ ও মেকআপ ব্রাশের যত্ন না নিলে ত্বকে ব্রণ, মেছতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে এবং ত্বকের লাবণ্য নষ্ট হতে পারে। তাই মেকআপ ব্রাশের যত্ন নেয়ার জন্য-

 

মেকআপ ব্রাশ রাখার জন্য এক ধরনের ছোট ছোট ছিদ্র যুক্ত ব্যাগ আছে যা ব্রাশকে ধূলোবালি থেকে মুক্ত রাখে, এসব ব্যাগে মেকআপ ব্রাশ রাখতে হবে।

সপ্তাহে অন্তত একদিন মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার করতে হবে।


পরিষ্কারের জন্য কুসুম গরম পানি আস্তে আস্তে এমনভাবে ব্রাশের চুলের উপর ঢালতে হবে যেন হাতল না ভেজে।


ব্রাশের চুল চেপে ধরে অতিরিক্ত পানি বের করে আনতে হবে এবং চুলগুলোকে পুনঃবিন্যস্ত করতে হবে।


পরিষ্কার করার পর ব্রাশকে বাতাসে শুকাতে হবে। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে ব্রাশের কুচিগুলো জমে শক্ত হয়ে গেলে পরে তা আর ব্যবহার করা যাবে না।